সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

machu-pichu-peru.jpg

বিপন্ন ইতিহাস মাচু পিচু, ইতিহাস যেখানে বিস্ময়কর অস্পষ্ট

অনুমান করা হয় ১৪৫০ সালের দিকে ইনকা শাসন আমলে এই শহরের সৃস্টি। পরবর্তীতে স্পেনিশদের কাছে এই শাসকগোষ্ঠী পরাজিত হয়। স্পেনিশরা পুরো পেরু দখল ও শাসন করলেও কোনো এক অজানা কারণে এই শহরের সন্ধান তারা কোনভাবেই পায়নি।

১৯১১ সালের পর যারাই এখানে গিয়েছেন বিস্ময় আর অনুমানের জের তাদেরকে এখনো তাড়িয়ে বেরাচ্ছে! এর উৎপত্তির ইতিহাস অনেকেই অনেক কিছু বলেছেন, কিন্তু নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।

মাচু পিচু দক্ষিন আমেরিকায় অবস্থিত পেরুর একটি প্রধান নগরী - যেখানে কেউ বসবাস করে না। কেউ মনে করেন এটা তীর্থস্থান হিসেবে বানানো হয়েছিল, কেউ বলেন অবকাশযাপন কেন্দ্র, আবার কারো মতে এটা ভয়ঙ্কর অপরাধীদের আটক রাখার কয়েদখানা! অনুমান করা হয় ১৪৫০ সালের দিকে ইনকা শাসন আমলে এই শহরের সৃস্টি। পরবর্তীতে স্পেনিশদের কাছে এই শাসকগোষ্ঠী পরাজিত হয়। স্পেনিশরা পুরো পেরু দখল ও শাসন করলেও কোনো এক অজানা কারণে এই শহরের সন্ধান তারা কোনভাবেই পায়নি।

এখানকার অবশিষ্ট নিদর্শন দেখে এটা নিশ্চিত বলা যায় যে এখানে মানুষের বসতি অবশ্যই ছিলো। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে এক সময়ে পুরো শহরটি জনমানবশূণ্য হয়ে যায়। অনেকে বলেন গুটিবসন্তের আক্রমনে এখানকার সব মানুষ মারা যায়। পরবর্তী কয়েকশ বছর এই শহরটি একেবারে জনমানবহীন থাকায় ঘন জঙ্গলের আড়ালে পড়ে যায়। কিছু আদিবাসীর যাতায়ত হয়তো ছিলো। কিন্তু কলম্বাস আমেরিকা আবিস্কার করে ফেললেও ১৯১১ সালের আগ পর্যন্ত এই শহরের কথা বিশ্ববাসী জানতো না।

১৯১১ সালের ২৪ জুলাই ইয়েল ইউনিভার্সিটির একজন প্রভাষক মার্কিন ঐতিহাসিক হাইরাম বিঙাম প্রথম এই শহরটির কথা বিশ্ববাসীকে জানান। যদিও পরে দাবি করা হয় যে তার আগেই একজন বিদেশী মিশনারি সেখানে পৌঁছেছিলেন খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। বিঙামের উদ্দেশ্য ছিলো মূলত স্পেনিশদের আক্রমনে পরাজিত ইনকাদের শেষ আশ্রয়স্থল খুঁজে বের করা। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি এই অজানা শহরের সন্ধান পেয়ে যান।

১৯১৩ সালের এপ্রিলে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি তাদের মাসিক ম্যাগাজিনের পুরোটাই মাচু পিচু নিয়ে তৈরী করে। এরপর থেকেই সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। বর্তমানে এটি পেরুর প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, আর গোটা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮১ সালে মাচু পিচুর আশপাশের মোট ৩২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক এলাকা ঘোষণা করা হয়।

পেরুর অর্থনীতি অনেকাংশে এখন মাচু পিচুর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়াতে অনেকগুলো বিলাসী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যাতে এর মূল সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে এর অস্তিত্বের উপর হুমকি সৃষ্টি করেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে প্রায় পুরো শহরটিকে ইনকা আদলে পুননির্মান করা হয়েছে। এর আশেপাশে যাতায়তের সুব্যবস্থা, থাকার জন্যে হোটেল - এসব করতে গিয়ে এর প্রাকৃতিক আসল রূপ এখন হুমকির সম্মুখীন।

২০০৮ সালে পৃথিবীর সবচাইতে ১০০ টি বিপন্ন স্থানের তালিকায় মাচু পিচু চলে এসেছে। হয়তো আমাদের জীবদ্দশায় আমরা এর মূল অস্তিত্ব পুরোটাই হারিয়ে ফেলবো।

-
তথ্য ও ছবি সূত্র: উইকিপেডিয়া

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Machu-Pichu, Peru, Inka, Civilization, Lost, World, travel, Spanish, 1911