সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Rose-garden-India.jpg

তামিলনাড়ু, ভারত স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী করলাম ভারতের সরকারি গোলাপ বাগান

এখানে সাধারণত যেসব গোলাপ ফুল আছে সেগুলো হল: Miniature Roses, Ramblers, Hybrid Tea Roses, Yakimour, Polyanthas, Papagena, Floribunda ইত্যাদি। পাঠক আমরা সাধারণত লাল, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের গোলাপ দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এই বাগানে সবুজ ও কালো রংয়েরও গোলাপের দেখা মিলবে।

ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। প্রেম-ভালবাসা নিবেদন কিংবা কবিদের কবিতা লেখার জন্য বিচিত্র মাধ্যম। ফুলকে ভালবাসেন না এমন লোক পৃথিবীতে মেলা ভার। আর যদি হয় তা গোলাপ ফুল তবে তো কথাই নেই। প্রেমিক-প্রেমিকার প্রথম দর্শন এই ফুল ছাড়া হবে এটাতো কল্পনাই করা যায় না!

ফুলের রাজ্যে গোলাপের কদর তো আঁকাশ ছোঁয়া। তবে আজ যে ফুল আর ফুল বাগানের কথা বলছি তার ফুল কিন্তু ছিড়তে পারবেন না। বাগানটি ভারতের। যা দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার।

গভর্নমেন্ট রোজ গার্ডেন বা সরকারি গোলাপ বাগান যাকে পূর্বে বলা হত জয় ললিতা গোলাপ গার্ডেন, সেন্ট্রারারী গোলাপ পার্ক এবং নুট্রান্ডু রোজা পোংগা। বাগানটি ১০ একরের অধিক (৪ হেক্টর) ভূমির উপর বিস্তৃত। এটি ভারতের সবচেয়ে বড় গোলাপ বাগান। ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের ওটি শহরের বিজয় নগরের ইল্ক হিলের পাদদেশে অবস্থিত।

বাগানটিতে প্রবেশ করা মাত্রই চোখে পড়বে হাজারো প্রকারের লাল, সাদা, হলুদসহ নানা রকমের গোলাপ ফুল। সবুজ ঘাসের মাঝে নানা ধরনের ফুল দেখলে এমনিতেই সবার নয়ন জুড়িয়ে যায়।

তামিলনাড়ু সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এই বাগানটি ১৯৯৫ সালের ২০ মে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয়। শুরুতে এতে ১৯১৯ প্রকরণের ১৭২৫৬ টি গোলাপ গাছ ছিল। বর্তমানে ২৮০০ কালটিভার (Cultivars) ও ২০০০০ এর অধিক প্রকরণের গোলাপ গাছ রয়েছে। বাগানটি খুলে দেয়ার পর থেকে দৈনিক হাজার হাজার সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটক সারা বছর ধরে সেখানে গমন করছেন। আমারও সুযোগ হয়েছিল বাগানটি দর্শনের। প্রায় এক ঘন্টার মত ছিলাম বাগানটিতে।

এখানে সাধারণত যেসব গোলাপ ফুল আছে সেগুলো হল: Miniature Roses, Ramblers, Hybrid Tea Roses, Yakimour, Polyanthas, Papagena, Floribunda ইত্যাদি। পাঠক আমরা সাধারণত লাল, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের গোলাপ দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এই বাগানে সবুজ ও কালো রংয়েরও গোলাপের দেখা মিলবে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহিত নানা প্রকরণের ফুল শোভা পাচ্ছে সেখানে।

সাধারণত হাতে সময় থাকলে প্রতিটি সাইনবোর্ড পড়বেন। এতে অনেক তথ্য জানা যাবে। তবে ফুলের সৌন্দর্য আর হাতের ক্যামেরা সে সুযোগ নাও দিতে পারে। স্মৃতির ফ্রেমে ফুলের সৌন্দর্যে নিজেকে হারিয়ে শুধুই ছবি তুলতে মন চাইবে। বাগানটি ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ রোজ সোসাইটি’, ওসাকা, জাপান থেকে ২০০৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ‘বেস্ট রোজ গার্ডেন’ এর পুরস্কার জিতে নিয়েছিল।

বাগানটি প্রতিদিন সকাল ৮:৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জনপ্রতি মাত্র ২০ রুপিতে প্রবেশ করা যায়। হাতে ক্যামেরা থাকলে স্টিল ক্যামেরার জন্য অতিরিক্ত ৩০ রুপি এবং ভিডিও ক্যামেরার জন্য ৭০ রুপি দিতে হবে।

যদি অসদুপায় অবলম্বন করতে চান তবে ক্যামেরাটা ব্যাগের ভিতর নিবেন। কারণ বাগানের ভিতর আর কেউ ক্যামেরার জন্য টাকা দিয়েছেন কিনা তা দেখবেনা। আবার প্রবেশের সময় ব্যাগ খুলেও দেখবে না। বের হবার সময়েও সেই একই কথা। ক্যামেরার জন্য রুপি দেয়ার ইচ্ছা না থাকায় এই পন্থা অবলম্বন করে আমি সফল হয়েছিলাম।তবে সাবধানতা হচ্ছে অসদুপায়ে ধরা পড়লে বড় অংকের জরিমানা গুণতে হতে পারে।

বাগানের ভিতর ফুল ধরা, ছেড়া নিষেধ। বিভিন্নস্থানে তাদের নিয়োজিত কর্মী পাহারায় থাকেন। সুতরাং নিষেধাজ্ঞা বা নিয়মবিধি মেনে চলতে হবে।

চোখে যতটা সুন্দর দেখেছি লেখায় হয়ত ততটা বোঝাতে পারছি না। তবে আমি হলফ করে বলতে পারি বাগানটি পরিদর্শন করলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি উদ্যানবিদ্যার উপরও জ্ঞানের পরিধি বাড়বেই। শুনেছি বাগানটিতে বহু উদ্যানবিদদেরও সমাগম ঘটে।
-
লেখক: ভারত থেকে, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদালয় (সিভাসু)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Floribunda, Papagena, Polyanthas, Yakimour, Hybrid-Tea-Roses, Ramblers, Miniature-Roses, travel, india, govt, garden, rose