সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

baliati pic .jpg

মলাটে আবদ্ধ ঐতিহ্য অমুল্য বালিয়াটি প্রাসাদ

কিশোর মহেশরাম ভাগ্যের ফেরে আসেন এই জনপদে। কাজ পেলেন এক পান ব্যবসায়ির বাড়িতে। সময়ে এখানেই বিয়েথা করেন শুরু করেন লবনের ব্যবসা। ছেলে গনেশরাম বাবার ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যান।

হলুদ-সবুজ এর বুক চিরে খানিকটা জনহীন পথ ধরে এগোচ্ছি, গন্তব্য - ইতিহাসের পাতায় বালিয়াটি।

চারটি প্রবেশমুখসহ প্রাচীর ঘেরা অসম্ভব সুন্দর দালান। প্রবেশমুখের উপরের সিংহগুলি জানিয়ে দিচ্ছে ওরা সবসময় নিয়োজিত এই অমুল্য সম্পদের রক্ষনাবেক্ষনে। প্রবেশতোরন দিয়ে ভেতরে ঢুকলেই পাশাপাশি চারটি দালান, পাশেই নাট্যমঞ্চ। মাঝেরদুটি দালান দুধসাদা, দুপাশে লাল ইট-সুরকি-লোহার অপরূপ কারুকাজ সম্বলিত অপরদুটি। 

দালানের স্তম্ভগুলির মাথার নকশাটা যেন কোন জীবন্ত সাপের ফনা, দালানের মাথায় দুটি মানুষের প্রতিচ্ছবি - এমনটি দেখিনি আগে কোন জমিদারবাড়িতে (আমার দেখা কয়েকটির মধ্যে)।  তাই এর গল্প আমার কাছে অজানাই রয়ে গেলো। টানা বারান্দাগুলিতে লোহার কারুকাজ -  এসব সগৌরবে জানান দেয় এই প্রাসাদের আভিজাত্যের কথা। অথচ শুরুটা এমন ছিলনা। বহু পরিশ্রমের ফসল এই রাজত্য, এই শান-সওকাত। 

কিশোর মহেশরাম ভাগ্যের ফেরে আসেন এই জনপদে। কাজ পেলেন এক পান ব্যবসায়ির বাড়িতে। সময়ে এখানেই বিয়েথা করেন শুরু করেন লবনের ব্যবসা। ছেলে গনেশরাম বাবার ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যান। গনেশরামের চার ছেলের মধ্যে গোবিন্দরাম এখানেই এই বালিয়াটিতে সংসার গড়ে তোলেন। তার চার সন্তান - আনন্দরাম, দধিরাম, পন্ডিতরাম, গোপালরাম। মুলত গোবিন্দরামের হাতেই গোড়াপত্তন এই জমিদারীর। ছেলেদের হাতে বাড়ে এর জৌলস একের পর এক তৈরী হতে থাকে ইমারত - পূববাড়ি, পশ্চিমবাড়ি, মধ্যবাড়ি, উত্তরবাড়ি, গোলাবাড়ি। পেছনে সারিবদ্ধ অন্দরমহল, তারপর ঘাট বাধানো দিঘি, দিঘির ওপারে কাজের লোকেদের বসবাসের স্থাপনা। জানিনা কত হা-হুতাশ পাওয়া নাপাওয়ার সাক্ষী এই দিঘীর জল, এখানের আকাশ-বাতাস।

শুধু এই বসতবাড়ি আর সুরম্য প্রাসাদ এর কারনে এই জমিদাররা বেচে থাকবে আমাদের মনে তা নয়। মনে রাখবে এজন্য - এই জমিদারীর ফসল ভোগ করবে প্রজন্ম-প্রজন্মান্তর। কারন জগন্নাথ বিশববিদ্যালয়, বালিয়াটি ঈশবরচন্দ্র বিদ্যালয়, ঢাকার কে এল জুবিলি হাইস্কুলসহ অনেক প্রতিষ্ঠান এদের হাতে তৈরী। এছাড়াও অনেক রুপকথার মত গল্প মানুষের মুখে মুখে ফেরে মানিকগঞ্জ এর সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটির জমিদারদের। এই ইতিহাস কখনও হারিয়ে যাবেনা, মানুষ ভুলে যাবেনা এই জনপদের কথা।

তাই আমাদের ইতিহাসকে, আমাদের ঐতিহ্যকে শুধু মলাটে আবদ্ধ করে যাদুঘরে পাঠিয়ে না দিয়ে এর সংরক্ষন ও নতুনদের কাছে বিলিয়ে দেয়া সময়ের চাহিদা। তাহলে নতুন প্রজন্মের দেশের প্রতি টানের শেকড়টা আরো গভীরে প্রোথিত হবে একেবারে মানুষের কাছে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

baliyati, castle, jomidar, manikganj, heritage, luxury, Bangladesh, Pride