সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

new pic.jpg

যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ঘুরে আসুন গোলাপের দেশে

কম সময়ে কাছে কোথাও ঘুরে আসতে পারবেন এমন অনেক জায়গাই আছে ঢাকার আশে পাশে। তারমধ্যে খুব সুন্দর আর মন ভালো করে দেয়ার মতো একটি জায়গা হলো গোলাপ গ্রাম। বিশ্বাস করুন, এই গ্রাম আপনার যান্ত্রিক জীবনের অনেকটা ক্লান্তিই দূর করে দিবে।

শহুরে যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু বিশ্রামের জন্য বা ক্লান্তি দূর করার জন্য আমরা কতো জায়গাতেই না ঘুরতে যাই। তবে সবসময় দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে সময় যেমন লাগে খরচও হয় বেশি। তাই কম সময়ে কাছে কোথাও ঘুরে আসতে পারবেন এমন অনেক জায়গাই আছে ঢাকার আশে পাশে।তারমধ্যে খুব সুন্দর আর মন ভালো করে দেয়ার মতো একটি জায়গা হলো গোলাপ গ্রাম। বিশ্বাস করুন, এই গ্রাম আপনার যান্ত্রিক জীবনের অনেকটা ক্লান্তিই দূর করে দিবে।

গত শীতে আমরা গিয়েছিলাম এই গোলাপের গ্রাম দেখতে। সকাল ৮ টার মধ্যে বের হয়ে যাই, মিরপুর ১০ থেকে রিকশায় রওনা দেই দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাটের উদ্দেশ্যে রিকশায় যেতে ৫০-৬০ টাকা লাগবে। আপনি বাসেও যেতে পারেন। বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পর পর ইঞ্জিন চালিত বোট ছাড়ে। সাহদুল্লাহপুর যেতে যেতে ৪৫ মিনিট-১ ঘণ্টা লাগবে। সেখানে একেক জনের জন্য ২০-৩০ টাকা করে নিবে। অথবা নিজেরা হাতে চালানো বোট নিতে পারেন, যেতে দেড় ঘন্টার মতো লাগবে।

দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটে যাওয়ার সময়টা আপনি সত্যি মুগ্ধ হয়ে থাকবেন, কুয়াশায় ঘেরা চারপাশ দেখে! শীতে গেলে অবশ্যই গরম কাপড় নিবেন। কারণ এমনিতে শীত না লাগলেও নদী পার হওয়ার সময়টায় অনেক শীত লাগবে।

সাহদুল্লাপুর ঘাটে পৌঁছানোর পর ঘাটের বট গাছের নিচে বসে চা-নাস্তা করে নিতে পারেন। এরপর পুরো গ্রামটা হেঁটে ঘুরবেন। আমি যতটা ভেবেছিলাম তার থেকেও বেশি সুন্দর এই গ্রাম। পুরোটাই যেন গোলাপের বাগান! যতদূর যাবেন গোলাপে ঢাকা চারপাশ আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে। সকালের শিশির ভেজা গোলাপে নরম আলোর ঝিকিমিকি। গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান। ফুটে আছে টকটকে লাল গোলাপ। গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে গোলাপের সৌরভ।

যেকোনো বাগান থেকে কথা বলে আপনি গোলাপ কিনে নিতে পারেন। তবে ওরা ওখানে ১০০-১৫০ এর কম গোলাপ বিক্রি করে না। দুপুরের দিকে গ্রামের ছোট হোটেল গুলোতে খাওয়া দাওয়া করে নিতে পারেন। অথবা সাথে খাবার নিয়ে গেলেও ভালো হয়।

সাহদুল্লাহপুর পুরো গ্রামটাই নানা রঙের গোলাপ ফুল দিয়ে ঘেরা। এছাড়াও অনেক ফুল আছে, যেমন- জারভারা, গ্লাডিওলাস। ঢাকার বেশি ভাগ ফুল এখান থেকে আসে। শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন ফুলের বাজারগুলোতে গোলাপের প্রধান যোগান দেন এখানকার চাষিরা। গ্রামে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসে গোলাপের হাট। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যবসায়ী এসে ভিড় জমান সেখানে। জমতে থাকে বেচাকেনা, চলে রাত পর্যন্ত। 

রাজধানীর শাহাবাগ, আগারগাঁও এবং খামারবাড়িতে ফুল নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। গোলাপের চাহিদা থাকে সব সময়। তাই চাষিরাও সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন। বিশেষ উত্সবের দিনগুলোতে চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ।

অনেক দূর হেঁটে সাহদুল্লাহপুর ঘাটে ফিরার সময় রিকশা বা অটো পাবেন। সন্ধ্যার আগেই আমরা মিরপুরের দিকে রওনা দেই। যাওয়ার সময় বাগান থেকে বেশ অনেকগুলো গোলাপ ফুল নিয়ে যাই! আবার ফিরি কাঠখোট্টা শহরে, তবে সাথে নিয়ে আসি গোলাপ-গ্রামের কিছুটা সৌরভমাখা স্মৃতি।

আপনিও যেকোনো দিন ঘুরে আসুন এই গোলাপের দেশে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

মিরপুর, ব্যাবসায়ী, চাষী, গ্লাডিওলাস, জারভারা, দিয়াবাড়ি, সাহদুল্লাহপুর, বটতলা-ঘাট, বাগান, গোলাপ, জীবন, যান্ত্রিকতা