সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Natural-Place-of-Bangladesh.jpg

বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থান

ভ্রমণ পিয়াসী লোকদের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হাজার হাজার দর্শনীয় স্থান রয়েছে এদেশে। ঈদ, পূজা, গ্রীষ্মকালীন, শীতকালীন ছুটি কিংবা প্রিয়জনদের সাথে অনায়াসে হারিয়ে যেতে পারেন বাংলার এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের এই দেশ। এদেশ তার বুকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে পাহাড়, সমুদ্র, নদী ইত্যাদি। ভ্রমণ পিয়াসী লোকদের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হাজার হাজার দর্শনীয় স্থান রয়েছে এদেশে। ঈদ, পূজা, গ্রীষ্মকালীন, শীতকালীন ছুটি কিংবা প্রিয়জনদের সাথে অনায়াসে হারিয়ে যেতে পারেন বাংলার এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে। চলুন জানা যাক বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় স্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

সীতাকুন্ড ইকোপার্ক ও চন্দ্রনাথ পাহাড়: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সাজানো ১৯৯৬ একর জমির উপর বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক অবস্থিত। এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথের পূর্বপাশে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। ঢাকা থেকেও সরাসরি ইকোপার্কে এসে নামতে পারবেন। এই পাহাড়ের শীর্ষে রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির। মন্দিরটি দেখতে হলে আপনাকে সবুজ গাছপালার ভিতরের রাস্তা দিয়ে প্রায় ১২০০ ফুট উঁচুতে উঠতে হবে।

ইকোপার্কের ভিতর দেখবেন ঝর্ণা। ঝর্ণার পানিতে গোসল করে নিতে পারবেন। নির্জন পাহাড়, সবুজ গাছপালা, হরিণ, বানর, খরগোশ, হনুমান, পাখির কলরব আপনাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবে। চট্টগ্রামে পড়াশোনার সুবাদে এই পার্কটিতে আমার বেশ কয়েকবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।

ফয়েস লেক: ভ্রমণ কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে হাতে খুবই অল্প সময় নিয়ে চট্টগ্রাম এসেছেন? আপনাকে চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সামনে অবস্থিত ফয়েস লেক স্বাগতম জানাচ্ছে। লেকটি প্রাকৃতিক নয়। ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে রেল কলোনির লোকদের পানির চাহিদা মেটাতে পাহাড় কেটে কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছিল। দুপাশের পাহাড়, গাছপালায় লাফিয়ে চলা বানর, কাঠবিড়ালী, মুক্তভাবে বিচরণশীল হরিণ দেখতে দেখতে জীবনের কিছুটা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতে পারবেন এখানে।

চট্টগ্রাম শহরের কাছাকাছি আরো যেতে পারেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। বিকেলের দিকে চট্টগ্রাম শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন এর সৌন্দর্য। বাসযোগে যেতে ১০ টাকার মত লাগবে। সিএনজি চালিত অটোরিকশায় লাগবে প্রায় ২০০ টাকা।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত: বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর কক্সবাজার সম্পর্কে সবারই কমবেশি জানা আছে। চট্টগ্রাম থেকে ১৫২ কিলোমিটার দক্ষিণে এটি অবস্থিত। ঢাকা থেকে প্রায় ৪১৪ কিলোমিটার যেতে হবে। এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের সবথেকে বড় পর্যটন কেন্দ্র।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের আশপাশেই পাবেন হিমছড়ি,যেখানে আছে শীতল পানির ঝর্ণা। তবে শীতল পানির ঝর্ণার পানি কতটা শীতল তা নির্ভর করবে আপনার উপর। আরো পাবেন পরিষ্কার পানির ইনানী সমুদ্র সৈকত। সবকিছু দেখতে চাইলে হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখতে হবে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: দ্বীপটিতে প্রচুর নারিকেল গাছ রয়েছে। তাই স্থানীয়রা একে নারিকেল জিঞ্জিরা বলেন। জিঞ্জিরা নামটি আরব বণিকদের দেয়া। এটি একটি প্রবাল দ্বীপ। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।

রাঙ্গামাটি জেলা: দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় জেলা হচ্ছে রাঙ্গামাটি। লাল মাটিতে বিস্তৃত থাকায় একে রাঙ্গামাটি বলা হয়। এ জেলাতে অনেকগুলো পর্যটক আকর্ষন করার মত স্থান রয়েছে। সুভলং পাহাড়, কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত ব্রীজ, পেদা টিংটিং ইত্যাদি অন্যতম।

বান্দরবান জেলা: এটিও একটি পাহাড়ী জেলা। এ জেলায় তাজিংডং, কিওকারাডং, নীলগিরি, বগালেক, নীলাচল ইত্যাদির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত নীলগিরি। বাংলাদেশের দার্জিলিং খ্যাত এই নীলগিরিতে পাহাড় ও মেঘের মিলন ঘটে। বন্ধুদের অনেকেই বলে সেখানে নাকি বর্ষাকালে মেঘ ছোঁয়া যায়!

সুন্দরবন: বিশ্বের সবথেকে বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হচ্ছে সুন্দরবন। বনটি পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকায় অবস্থিত। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিশাল এলাকায় বিস্তৃত। ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে এটির অবস্থান। মোট ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার বনের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশে অবস্থিত। নদীনালা, খাঁড়ি, বিল মিলিয়ে গঠিত হয়েছে জলজ অঞ্চল।

এখানে দেখা মিলবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির, সাপসহ নানা প্রজাতির পাখি। বনটি সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া গাছের সমারোহে ভরপুর।

সিলেট: সিলেট জেলা চা বাগানের জন্য প্রসিদ্ধ। এটিও একটি পাহাড়ী জেলা। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, জাফলং এর সৌন্দর্যে সকলেই বিমোহিত হন সেখানে।

কোথাও ঘুরতে গেলে সেই স্থান সম্পর্কে পূর্বথেকেই কিছু ধারণা নিন। জেনে নিন আবাসিক হোটেল, খাবারের মূল্য, যাত্রাপথের দূরত্ব ও খরচ ইত্যাদি। সিদ্ধান্ত নিন কতদিনের জন্য ঘুরতে যাচ্ছেন। যাত্রাকালে নিজস্ব ক্যামেরা থাকলে সঙ্গে নিবেন। সমুদ্র সৈকতে একাকী ঘুরতে গেলে ক্যামেরা ম্যানদের কাছে ছবি তুলবেন না। ভ্রমন কয়েকজনের গ্রুপে করা ভাল। আপনার ভ্রমণ হোক আনন্দময়।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সুভলং, সুন্দরবন, সিলেট, সীতাকুন্ডু, সেন্ট-মার্টিন, ফয়েস-লেক, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজার, পর্যটন, স্থান, প্রকৃতি, বাংলাদেশ