সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Pubail new pics.jpg

দেখে আসুন বেলাই বিলের সৌন্দর্য

এই বছর বর্ষায় গেলাম গাজিপুরের বেলাই বিল দেখতে। জল দেখলে নাকি মন শান্ত হয়। আর এজন্যই হয়তো অনেকেই ছুটে যান সাগর, ঝরনা, নদী আর লেকের পাশে। বেলাই বিল আর চেলাই নদী একইসাথে অবস্থিত এবং এমনই একটা জায়গা।

বন্ধুরা মিলে একসাথে ঘুরতে যাওয়ার সময় সবার হয়ে উঠে না সবসময়। কারন এর হয় তো ওর হয় না, ও না গেলে আমিও যাব না। তাই আমি চেষ্টা করি দুই-তিন জন মিলে কাছাকাছি ঘুরে আসতে, সারা দিন পার করে চলে আসা যাবে এমন সব জায়গা।

এই বছর বর্ষায় গেলাম গাজিপুরের বেলাই বিল দেখতে। জল দেখলে নাকি মন শান্ত হয়। আর এজন্যই হয়তো অনেকেই ছুটে যান সাগরঝরনানদী আর লেকের পাশে। বেলাই বিল আর চেলাই নদী একইসাথে অবস্থিত এবং এমনই একটা জায়গা।

৪০০ বছর আগের ইতিহাসে বেলাই বিলে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব ছিল না। চেলাই নদীর কারণেই বিলটি স্রোতস্বিনী রূপ নেয়। বর্ষা মৌসুমে বিলের চারপাশে গ্রামের মানুষ ডাঙ্গি খনন করে। এখানে ধরা হয় মাছ। আর শুষ্ক মৌসুমে বিলটিতে ধান চাষ হয়।

এখানে ইঞ্জিনচালিত আর ডিঙ্গি নৌকা দুটোই পাওয়া যায়। যেটাতে মন চায় উঠে পড়ুন। তবে এমন পরিবেশে ইঞ্জিন নৌকার চাইতে শব্দহীন ডিঙ্গি নৌকাই উত্তম। নৌকা চলার সাথে সাথে বিকালের শান্ত পরিবেশে বেলাই বিল হয়ে ওঠে অপূর্ব। দ্বীপের মতো গ্রাম বিলের চারপাশে।

বেলাই বিল মানেই শাপলার ছড়াছড়ি। কেবল চারিদিক তাকিয়ে থাকতে মন চাইবে। নদীর নীল আকাশের বুকে যেন রঙিন কারুকার্য। দূরের সবুজ, মায়াবী আকাশ, বিলের পানিতে সেই আকাশের ছায়া আর একটু পর পরই বাতাস যেন উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। সব মিলে এক রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। চারিদিকের নিস্তব্ধতা, পানির হাল্কা স্পন্দন আর ঝিঝি পোকার শব্দে অন্যরকম ভাললাগা জেগে ওঠে প্রাণে।

সন্ধ্যা হবার আগে আগেই শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি আর মাতাল হাওয়া। সাদা বক আর গাঙচিল উড়ে যায় তার নীড়ে। নৌকাতেই বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করি, ভয়ও লাগছিলো সাঁতার না জানায়!

বৃষ্টি থামলে মায়াবি এক আবেশ নিয়েই ফিরে যাওয়ার সময় হয়। আমরা নদীর আঁকা-বাঁকা পাড় দিয়ে হেঁটে হেঁটে রওনা দেই আমাদের গন্তব্যে।

আবারও কোন একদিন চলে যাব নীল আকাশের নীলিমা খুঁজতে সেই সাদা মেঘ আর গাঙচিলদের রাজ্যে। 

যেভাবে যাবেন:
গাজিপুর সদর পর্যন্ত যে কোন বাসে। সেখানে নেমে টেম্পুতে কানাইয়া বাজার। ভাড়া নিবে ১০ টাকা করে। রিকশাতেও যেতে পারেন। কানাইয়া বাজারে নেমেই একটু সামনে ব্রিজ আছে। ব্রিজ পার হয়ে চেলাই নদীতে বাধা নৌকা ঠিক করে উঠে পরুন। সারা দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরতে ৪০০-৫০০ টাকা নিবে।

মৃতপ্রায় এইনদীটির নাম অনেকেরই অজানা। অথচ এ নদীটিকে কেন্দ্রকরেই গড়ে ওঠে এক সময়ের ইতিহাসখ্যাত ভাওয়ালপরগণা (শ্মশান ঘাট বা শ্মশান বাড়ি)। চাইলে নদীর পাশেই এই শ্মশান বাড়িটি দেখে আসতে পারেন।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

জল, নৌকা, প্রকৃতি, ভ্রমন, ঘোরাঘুরি, আকাশ, সৌন্দর্য, শাপলা, নদী, গাজীপুর, বেলাই-বিল