সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Lau-Chapra---Jamalpur.jpg

ঘুরে আসুন পাহাড় আর সবুজের অপূর্ব মেলবন্ধন লাউ চাপড়া

নগর জীবনের ব্যস্ততায় যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, মন চাইবে একটু বিশ্রাম। ঠিক তখনি কাটিয়ে আসতে পারেন সবুজের মাঝে পাহাড়ি গ্রামে।

ঘুরতে ভাল বাসেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হাত ছাড়া করার মত ইচ্ছা কারো আছে বলে আমার মনেই হয় না। আর যদি এই ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ আসে কোন পাহাড় দেখার তবে তো কথাই নেই। এইতো কয়েক মাস আগে সুযোগ পেয়েছিলাম লাউ চাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে আসার। এটি জামালপুর জেলায় অবস্থিত।

কিভাবে গিয়েছিলাম: আমাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার শেষ সীমান্তে এবং জামালপুর জেলার সাথে হওয়ায় মোটর সাইকেল যোগে খুব সহজেই যেতে পেরেছিলাম। মোটর সাইকেল যোগে লাউ চাপড়ায় পৌঁছাতে প্রায় বেলা ১ টা বেজে যায় আমাদের। আমরা গেটে প্রতিটি মোটর সাইকেলের জন্য ২০ টাকা ভাড়া দিয়েছি। অর্থাৎ মোটর সাইকেলে কতজন উঠেছেন সেটা কোন বিষয় নয়। মোটর সাইকেল নিয়ে ঢুকতে হলে প্রতিটি মোটর সাইকেল বাবদ ২০ টাকা গুণতে হবে।

আপনি যেভাবে যাবেন: লাউ চাপড়া অবসর কেন্দ্রটি জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তরে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে ৭ হাজার ৯৯ একর ৬২ শতাংশ জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। যদিও অবসর কেন্দ্রটি জামালপুর জেলায় অবস্থিত তবুও ঢাকা থেকে যেতে হলে শেরপুর জেলার ভিতর দিয়ে যাওয়া খুবই সহজ হবে। ঢাকা থেকে শেরপুরগামী বাসে উঠে খুব সহজেই যেতে পারবেন।

সারাবছরই এখানে দর্শনার্থীদের সমাগম থাকে। আসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্কুল কলেজের পিকনিক বাস। এটি সুন্দর পিকনিক স্পটও বটে। রাত্রি যাপন করার জন্য স্বল্পমূল্যে পাবেন আবাসিক হোটেল।

যা দেখবেন: ভিতরে প্রবেশ করা মাত্রই সবুজ-শ্যামল ও দৃষ্টিনন্দন গাছপালা আপনার দৃষ্টি কেড়ে নেবে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখবেন সু-উচ্চ পাহাড়, শুনবেন পাখির কিচিরমিচির। ৫-৬ জনের গ্রুপে পাহাড়ের ভিতর দিয়ে হেঁটে বেড়াবেন। দেখবেন রাবার বাগান। এছাড়াও আছে রাবার প্রসেসিং কারখানা। জেলা পরিষদের ডাক বাংলো পাহাড়িকা এই অবসর কেন্দ্রেই অবস্থিত।

জামালপুর জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত ৬০ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ারে উঠলে দেখবেন ঢেউ খেলানো সবুজ গাছপালার সমাহার। পাহাড়ের পাদদেশে দেখা মিলবে গারোদের গ্রাম। তাছাড়াও দূর পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকেও রয়েছে গারোদের আবাস। এছাড়াও আছে কোচ, হাজংসহ বিভিন্ন আদিবাসী। এখানে আছে দিঘলাকোনা, বালুঝুড়ি, সাতানিপাড়া, পলাশতলা, লাউ চাপড়া, মেঘাদল, শুকনাথ পাড়াসহ প্রভৃতি গ্রাম।

এই পাহাড়ের পাদদেশে আবাদি জমিতে মাঝে মাঝে বন্য হাতি আসে। বন্য হাতি তাই দেখার আশা না করাই ভাল। হাতিগুলো সর্বত্রই আসে না। তাই ভ্রমণকারীদের ভীত হওয়ার কিছুই নেই। হাতে রাম দা নিয়ে গরু চড়ানো এক বালককে জিজ্ঞেস করে এমনটিই জেনেছিলাম। রাম দা তাদের নিরাপত্তা ও হাতি তাড়ানোর কাজে আসে।

আরো যা দেখবেন: লাউ চাপড়া থেকে একটু দূরেই শেরপুর জেলার বিনোদন কেন্দ্র গজনি অবকাস ও মধুটিলা ইকোপার্ক। নিজস্ব যানবাহন না থাকলে অটোরিকসা বা নছিমন (স্থানীয় ভাষায় ভটভটি) ভাড়া করে যেতে পারবেন। দরদাম আগেই ঠিক করে নেয়া ভাল।

সম্পদ: এখানে রয়েছে প্রচুর খনিজ সম্পদ। নুড়ি পাথর, বোল্ডার পাথরে সমৃদ্ধ এটি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও চোরাকারবারী কর্তৃক অবৈধভাবে গাছপালা কর্তন, বালি ও পাথর উত্তোলনের ফলে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।

পরিশেষে, নগর জীবনের ব্যস্ততায় যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, মন চাইবে একটু বিশ্রাম। ঠিক তখনি কাটিয়ে আসতে পারেন সবুজের মাঝে পাহাড়ি গ্রামে। মনের মাঝে পুষে রাখুন সামনের কোন এক ছুটি শহর থেকে দূরের এই গ্রাম গুলোতেই কাটিয়ে আসবেন।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

রাবার-বাগান, পিকনিক-স্পট, পাড়াগ্রাম, শুকনাথ, মেঘাদল, পলাশতলা, সাতানিপাড়া, বালুঝুড়ি, আদিবাসী, দিঘলাকোনা, অবসর-কেন্দ্র, কুড়িগ্রাম, খনিজ-সম্পদ, জামালপুর, ব্যস্ততা, নগর-জীবন, লাউ-চাপড়া, অপূর্ব, সবুজ, পাহাড়