সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

National-Zoo-Dhaka.jpg

ঘুরে আসুন জানুন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিছু তথ্য

চিড়িয়াখানাটি গ্রীষ্মকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা ও শীতকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। জনপ্রতি ১০টাকা প্রবেশমূল্য দিতে হয়। ২ বছরের কম বয়সী বাচ্চা, প্রতিবন্ধী ও মানসিক রোগীদের টিকেট লাগেনা। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ ৫০-১০০% ছাড় দিতে পারেন।

রবিবার খুব সকালে নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়ি বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানার (পূর্বনাম: ঢাকা চিড়িয়াখানা) উদ্দেশ্যে। ঢাকায় অনেকবার আসলেও ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও চিড়িয়াখানাটিতে যাওয়া হয়নি। তবে ভেটেরিনারি মেডিসিন বা প্রাণি চিকিৎসার উপর পড়াশোনা করায় ইন্টার্নশীপের জন্য যেতে হচ্ছে।

সকাল ৯টার মধ্যে চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে দেখি আমার কয়েকজন বন্ধু সেখানে উপস্থিত। সকলেই উপস্থিত হলে সকাল সাড়ে ৯টায় চিড়িয়াখানার ভিতরে প্রবেশ করি। মূলত আমাদের ৭০ জন শিক্ষার্থীকে পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত করে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রতিটি গ্রুপ পাঁচ দিন করে থাকার সুযোগ পাবে।

প্রথমদিন চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ড. এস.এম নজরুল ইসলাম স্যার আমাদের ক্লাস নেন। তার কাছ থেকে চিড়িয়াখানার ইতিহাস ও অন্যান্য তথ্য জানতে পারি।

জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৫০ সালে চিড়িয়াখানাটি হাইকোর্ট চত্বরে জীবজন্তুর প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ১৯৭৪ সালে বর্তমান স্থানে নেয়া হয় ও একই বছর ২৩ জুন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বর্তমানে এটি ১৮৬ একর জুড়ে বিস্তৃত। যার ভিতরে প্রায় ৩২ একরের দুটি লেক রয়েছে।

চিড়িয়াখানার প্রাণিগুলোকে পাঁচটি শাখায় বিভক্ত করে রাখা আছে। বিভক্তি ও প্রাণির সংখ্যা হচ্ছে:

  • কার্নিভোর বা মাংসাসী প্রাণি শাখা: ১০টি প্রজাতির ৪৮টি প্রাণি,
  • বৃহৎ প্রাণি শাখা: ২২টি প্রজাতির ১৫৯টি প্রাণি,
  • ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ প্রাণি শাখা: ৩৩টি প্রজাতির ২৩৯টি প্রাণি,
  • পাখি: ৬১টি প্রজাতির ১২১৭টি ও
  • ফিস একুরিয়াম শাখায়: ২৩টি প্রজাতির ৪১৯টি প্রাণি রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য প্রাণিগুলোর মাঝে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, হায়েনা, উল্লুক, বানর, হরিণ, গন্ডার, জিরাফ, লোনা পানির কুমির, ঘড়িয়াল, সাপ, ইমু, কালো ভল্লুক ইত্যাদি।

প্রতিটি খাঁচায় প্রাণিদের সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দেয়া আছে। এতে দর্শনার্থীরা প্রাণিগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে। তাছাড়া বিশাল চিড়িয়াখানাটির বিভিন্ন স্থানে ক্লান্ত দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা আছে। চাইলে জু গাইড নিতে পারবেন। আর বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য পাবেন হুইল চেয়ার।

চিড়িয়াখানাটি গ্রীষ্মকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা ও শীতকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। জনপ্রতি ১০টাকা প্রবেশমূল্য দিতে হয়। ২ বছরের কম বয়সী বাচ্চা, প্রতিবন্ধী ও মানসিক রোগীদের টিকেট লাগেনা। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ ৫০-১০০% ছাড় দিতে পারেন।

আপনার অবসর সময় কাটানোর জন্য যেতে পারেন সেখানে। যেতে চাইলে ঢাকার যেকোন স্থান থেকে মিরপুর ১ এ, সনি সিনেমা হলের সামনে নেমে সোজা উত্তর দিক রিক্সা বা বাসযোগে যেতে পারবেন।

জাতীয় চিড়িয়াখানাটিতে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। আপনিও অবসর সময় কাটানো কিংবা প্রাণিদের সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের নিমিত্বে যেকোন সময়েই যেতে পারেন সেখানে। ব্যস্ত ঢাকা নগরীর মাঝে নির্মল পরিবেশ ও সবুজ গাছপালায় ঘেরা দেশের বৃহত্তম চিড়িয়াখানা দেখে কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তিকে কিছুটা হলেও বিদায় জানাতে পারবেন।

-
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

কালো-ভল্লুক, ইমু, সাপ, ঘড়িয়াল, লোনা-পানির-কুমির, জিরাফ, গন্ডার, হরিণ, বানর, উল্লুক, হায়েনা, সিংহ, রয়েল-বেঙ্গল-টাইগার, প্রাণি, দর্শনার্থী, ইতিহাস, বাংলাদেশ, জাতীয়-চিড়িয়াখানা, মিরপুর, ঢাকা