সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Hoseni-Dalan-Puran-Dhaka.jpg

ঘুরে আসুন কারবালার স্মৃতিতে নির্মিত হোসেনী দালান

হোসেনী দালান দর্শনে কারবালার করুণ, নিকৃষ্ট ও হৃদয় বিদারক ঘটনাপ্রবাহ স্মৃতিপটে ভেসে উঠবে। পাশাপাশি মুঘলদের স্থাপত্যশৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবে।

রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকায় অবস্থিত একটি শিয়া উপাসনালয় ও কবরস্থান হচ্ছে হোসেনী দালান বা ইমামবাড়া। বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্যকে জানতে ও ঐতিহাসিক স্থান দেখার তালিকায় নতুন আরেকটি নাম যুক্ত করার অভিপ্রায়ে এই দালানটিও ঘুরে দেখলাম।

শিয়া সম্প্রদায়ের এই উপাসনালয়টি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই ডাকছে। এই ডাকে সাড়া দিয়ে ছেলেমেয়ে, নারী পুরুষ, শিয়া-সুন্নী, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকলেই যাচ্ছেন।

নির্মাণ ইতিহাস: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৭শ শতকে এটি নির্মিত হয়। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পৌত্র হোসেন (রাঃ) এর কারবালা প্রান্তরে শাহাদৎ বরণের স্মরণে এটি নির্মিত হয়। দালানটির নির্মাণকাল নিয়ে মতভেদ পাওয়া যায়। এর দেয়ালে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায়, সুবেদার শাহ সুজার আমলে ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে সৈয়দ মীর মোরাদ এটি নির্মাণ করেন। দালানটি ১৮৩২ সালের পর বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। 

১৮৯১ সালে মীর ইয়াকুব ইমামবাড়া স্থাপন করেন। ইমামবাড়াটি ইমাম হোসেন (রাঃ) এর রওজা মোবারক অনুকরণে নির্মিত। ইমামবাড়া নির্মাণ শিয়াদের একটি প্রচলিত রীতি। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন শহরে অনেক ইমামবাড়া রয়েছে। ইমামবাড়া থাকায় দালানটি ইমামবাড়া নামেও খ্যাত।

১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হলে খাজা আহসানউল্লাহ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে পুণঃনির্মাণ ও সংস্কার করেন। ১৯৯৫ সালে এবং ২০১১ সালে পুনরায় পুকুর ও ভবনটি সংস্কার করা হয়।

প্রায় সাড়ে ৩০০ বছরের পুরনো স্থাপনাটি ৯৩৮০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে বিস্তৃত। প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতেই বাগান, দিঘী ও মূল ভবনটি চোখে পড়বে। প্রবেশের সময় হাতের ডানপাশে পড়বে কবরস্থান। দালানের দক্ষিণাংশে রয়েছে একটি বর্গাকৃতি পুকুর। সাদা রংয়ের দালানটি একটি উঁচু মঞ্চের উপর দাঁড়ানো। মসজিদটির ভিতর এবং বাইরে সুন্দর কারুকার্য করা হয়েছে। ক্যালিওগ্রাফির সৌন্দর্য খুবই উপভোগ করার মত।

মহররমের সময় এখানে বিশেষ বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তাজিয়া মিছিল বের করে, মাতম করা হয়। মহিলাদের জন্যও নামাজ ও কোরআন পড়ার ব্যবস্থা আছে।

অবস্থান: পুরনো ঢাকার নিমতলী ও চানখাঁরপুল এলাকার হোসেনী দালান রোডে অবস্থিত। বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পায়ে হেঁটে, রিকশা, অটোরিকশাযোগে যাওয়া যায়।

সময়সূচী ও টিকেট: হোসেনী দালান সবার জন্য উন্মুক্ত। কোন টিকেট লাগবে না। প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

হোসেনী দালান দর্শনে কারবালার করুণ, নিকৃষ্ট ও হৃদয় বিদারক ঘটনাপ্রবাহ স্মৃতিপটে ভেসে উঠবে। পাশাপাশি মুঘলদের স্থাপত্যশৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবে। সুতরাং বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য জানতে ঘুরে আসতে পারেন দালানটি।

-
লেখক: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

ঢাকা, পুরান, বর্ণ, ধর্ম, জাতি, উপাসনালয়, শিয়া-সম্প্রদায়, স্থাপত্যশৈলী, মুঘল, হোসেনী-দালান, স্মৃতি, কারবালা