সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

green-chittagong-university.jpg

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রকৃতির মাঝে একদিন

সেই ছেলেবেলা থেকেই সবুজ প্রকৃতি, দিগন্ত বিস্তৃত আবাদি জমি কিংবা গাছের ডালে বসে থাকা পাখিগুলো সর্বদাই আমার মন কাড়ত। অপলক তাকিয়ে থাকতাম ওগুলোর দিকে। কোন পাহাড় কিংবা সবুজ গাছপালা ঘেরা প্রান্তরে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করার মত মানুষ আমি নই। তাই সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সাথে প্রকৃতি দেখতে বের হই।

এইতো গত শুক্রবার জুমা’র নামাজ পড়ে বের হয়েছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। সাধারণত আমরা গ্রুপ ছাড়া কোথাও যাইনা। কিন্তু সেদিন অনেকের ব্যস্ততা থাকায় মাহিকে সাথে নিয়ে ছুটলাম পাহাড় ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ দর্শনে। কোথাও ঘুরতে গেলে আমার আরেকটি সঙ্গী থাকে। তা হল আমার ক্যামেরা। হয়ত খুব সুন্দর ছবি তুলতে পারি না তবে প্রকৃতির ছবিগুলো কেন যেন এমনিতেই সুন্দর হয়ে ওঠে। আমাদের ভ্রমনের ছবিগুলো স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করার কাজটা সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে আমার উপরই থাকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামের পাহাড়ি সমতল ভূমির উপর অবস্থিত। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। তার থেকে বড় কথা হল প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে নিজস্ব স্বকীয়তা প্রকাশের ক্ষমতা আমার মনে হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই আছে। আমাদের চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাস ও অটোরিকশা যোগে সেখানে পৌঁছতে লেগেছিল মাত্র এক ঘন্টা। অর্থাৎ যদি আপনি চট্টগ্রামের জিইসি থেকে যেতে চান তবে আপনার লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। আপনি দেশের যে প্রান্ত থেকেই আসেন না কেন গাড়িগুলোকে বললে জিইসিতে নামিয়ে দিবে।

আমরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে প্রবেশ করা মাত্রই বুঝতে পারি কোন এক পাহাড়ঘেরা প্রকৃতিতে ঢুকতে যাচ্ছি। জিরো পয়েন্ট থেকে পাহাড়ের ভিতর দিয়ে বয়ে চলা রাস্তা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে যাই। সেখানে আমাদের গাইডম্যান শারমিনের সাথে দেখা করি। শারমিন হচ্ছে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মাহির ছোট বোন। হাঁটতে হাঁটতে ভিসির বাস ভবনের সামনে যাই। শুরুটা শেখান থেকেই। আব্দুল জব্বার নামক পাহারাদারের সাথে কথা বলে জানলাম হরিণ, বন্য শুকুর, বন বিড়াল, বানর, সাপ নাকি দেখা যায়। পরে শারমিনের কাছে জানলাম কথাটা সত্যি। তাই ইচ্ছা ছিল গভীর রাত পর্যন্ত থাকব। তবে সময় স্বল্পতা ও ব্যস্ততার কারনে থাকা সম্ভব হয়নি। 
যাইহোক, পড়ন্ত বিকেলে বসন্তের হাওয়ায় বিজ্ঞান অনুষদ পেরিয়ে যখন হাঁটতে থাকি পাখির কলকাকলি আমাদের মুগ্ধ করে তোলে। মায়াবী সাঁঝের পরিবেশে নিড়ে ফেরা পাখিরা যেন আমাদের গান শুনিয়ে তৃপ্তি পাচ্ছিল। শহীদ মিনার থেকে মাত্র বিশ মিনিট হেঁটে সোজা চলে যাই ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল গার্ডেনে। গার্ডেনে নতুন নতুন উদ্ভিদের সাথেও পরিচিত হই। বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে যখন ছোট্ট ঝরণা দেখতে যাব তখন মাগরিবের আযান দিচ্ছিল মোয়াজ্জিন। আর সাথে সাথে বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির ডাকাডাকি আরো বেড়ে যায়।

আমি ক্যামেরায় প্রতিটি দৃশ্য খুব সুন্দরভাবে বন্দী করছিলাম। একটা কাঠবিড়ালির ছবি তুলতে টানা ত্রিশ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। বেটা কাঠবিড়ালি পাতার আড়াল থেকে লেজ বের করেছে কিন্তু পুরো শরীর বের করছেনা। আবার একটি সাপ পানিতে ব্যাঙ ধরেছে। ব্যাঙের চিৎকার শুনে ক্যামেরা হাতে চুপচাপ ছবি তুললাম। সাপ কিংবা ব্যাঙ বুঝতেই পারেনি আমার উপস্থিতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এরা এভাবেই অভিযোজিত। তাই তাদের যাতে কোন সমস্যা না হয় সেভাবেই আমাদের চলা উচিৎ। সাঁঝের বেলা পাখিদের গাছের ডালে ঝাঁক বেঁধে বসে থাকার দৃশ্য, সবুজ গাছপালা সবই আমাদের মন কেড়েছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনাদেরও কাড়বে।

সন্ধ্যার পর আমরা কিছুক্ষণ শহীদ মিনারে বসে থাকলাম। রাতের অন্ধকার আস্তে আস্তে বাড়তেছিল। আমরা শারমিনকে বিদায় দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার জন্য পা বাড়ালাম। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী আসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তবে যদি আপনার সবুজ প্রকৃতি দেখার ইচ্ছা জাগে আর সেটি হয় চট্টগ্রামের ভিতরই তবে বলব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দিবেন না।

লেখক: ইন্টার্ণশীপ শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Bangladesh, animal, life, love, nature, green, university, chittagong