সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

DSC_0367.JPG

ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি - সবুজের সাথে পাহাড়ের দেশে

যদিও এখানকার মাটি রঙ্গীন হওয়ায় এ জেলার নাম রাঙ্গামাটি রাখা হয়েছে তবে আমার চোখে বেশি একটা রঙ্গীন মাটি না পড়লেও আমি রাঙ্গামাটি নামকরনের সার্থকতা পেয়েছি এর অপরুপ বৈচিত্র দেখে।

উঁচু উঁচু পাহাড় তার মাঝদিয়ে বয়ে চলা সরু রাস্তা কখনো আকাশ সমান উঁচু আবার কখনো অতল গহ্বর। ভাবনায় পড়ে গেলেন? ভাবনার কিছু নেই আমি বলছি যেখানে পাহাড় নদী আর সবুজের একান্ত সংমিশ্রণ সেই রাঙ্গামাটির কথা।

যদিও এখানকার মাটি রঙ্গীন হওয়ায় এ জেলার নাম রাঙ্গামাটি রাখা হয়েছে তবে আমার চোখে বেশি একটা রঙ্গীন মাটি না পড়লেও আমি রাঙ্গামাটি নামকরনের সার্থকতা পেয়েছি এর অপরুপ বৈচিত্র দেখে। আকাবাকা কাপ্তাই হ্রদের তীর ঘেঁসে ঠায় দাড়িয়ে থাকা পাহাড়গুলো ও তার লোহাসম কঠিন মাটি আর অপরুপ সবুজের লীলাভূমী মনে যে চিত্র অংকন করেছে সে কারনেও যদি এ জেলার নাম রাঙ্গামাটি রাখি সেটা সম্ভাবত ভূল সিদ্ধান্ত হবে না।

যেখাবে যাওয়া:
দালান কোঠায় ঘেরা রাজধানীর বন্ধি বাতাস যেন আর সহ্য হচ্ছিল না তাই এবার একটু নির্মল বাতস প্রয়োজন। কি করা যায়? কোথায় যাওয়া যায়? চিন্তা করতেই প্রথমেই মাথায় এল রাঙ্গামাটির কথা, কিন্তু কেউ সমর্থন দিল না, পরামর্শ এলো আরো অনেক স্থানের কিন্তু শেষমেশ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হল আমরা এবার রাঙ্গামাটি যাচ্ছি।

তারিখ নির্ধারণ হল ১৬ই মে ২০১৫। হাতে সময় সাতদিন তাই সবাই নেমেপড়লাম কাজে, গাড়ি রিজার্ভ খাওয়া থাকা সবই ব্যাবস্থা হল। কিন্তু আগেরদিন অসুস্থ হয়ে গেলাম। মনটা খারাপ হয়ে গেল অনেক দিনের স্বপ্ন শেষপর্যন্ত ভেস্তে যাবে? না সেটা হতেই পারেনা! প্রয়োজনে তোমাকে কাঁধে নিয়ে পাহাড়ে উঠব, বলে উঠল সহপাঠিরা। একটু সাহস পেলাম সিদ্ধান্ত নিলাম প্রয়োজনে পাহাড়ে না ঘুরে হোটেলে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেব তবুও রাঙ্গামাটি যাবই।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬তারিখ রাত দশটায় ডেমরা থেকে যাত্রাশুরু। আমাকে ভালোদেখে একটি আসন দেয়া হল যেন আমি ভালোমত ঘুমাতে পারি। কিন্তু গাড়ি ছাড়তেই সবার উল্লাসে আর ঘুমাতে পারলাম না আমিও উল্লাসে ফেটে পড়লাম। মাঝে একটু ঘুম এল, জেগে দেখি ঘড়িতে বাজে ভোর ৪টা আমরা এখন চট্রগ্রাম শহরে। পাহাড়ী রাস্তা দেখার নেশায় আর ঘুম এল না। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে প্রবেশ করলাম রাঙ্গামাটি জেলায় শুরু হল স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

স্বপ্ন যখন সত্যি:
শিশির ভেজা সবুজের বুক ছিড়ে আকাবাকা পাহাড়ী সরু পথে এগিয়ে চলছে আমাদের গাড়ি, কখনো উঠছে আকাশ সম উপরে আবার কখনো নেমে যাচ্ছে অতল গহ্বরে। সত্য দেখছি বলে এখনো মনে হচ্ছে না তবে সত্যই। দেখতে দেখতে কখন যে পৌছে গেলাম রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ টেরই পেলাম না।

গাড়ি থামাতেই জিজ্ঞেস করলাম কি হল মামা গাড়ি থামালেন কেন?
ড্রাইভার বললেন, আমরা পৌছে গেছি নেমে নাস্তা সেরে নেন সামনেই ঝুলন্ত ব্রিজ হেঁটেও যেতে পারবেন।

খাটি মরিচ:
গাড়ি থেকে নেমে একটি হোটেলে নাস্তা করতে বসলাম, খাবারে যে পরিমান অতিরিক্ত ঝাল ওরে বাবারে! অনেক কষ্টে নাস্তা সেরে পানি পান করব তাও সমস্যা। পরে কোমল পানিয় পান করে কিছুটা ঝাল নিবারন হল। এ অবস্থা শুধু আমার না আমাদের সাথে থাকা সকলের হয়েছিল ফলে আমরা বুঝতে পারলাম খাটি মরিচ কাকে বলে।

ঝুলন্ত ব্রিজ:
নাস্তার পর মাত্র ৫মিনিট গাড়ি চলার পরই পৌঁছে গেলাম ঝুলন্ত ব্রিজ। সবার আনন্দ আর ধরে কে? সবার তালে পড়ে আমিও ভুলে গেলাম আমি অসুস্থ, ছুটে বেড়াতে থাকলাম এখান থেকে ওখানে। কি সুন্দর দৃশ্য, যে দিকে তাকাই চোখ যেন সেখানে থেকে যেতে চায়। দেখতে দেখতে দেড় ঘন্টা কেটে গেল এবার ফিরতে হবে।

এবারের গন্তব্য শুভলং পাহাড়। যেহেতু শুভলং পাহাড়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় তাই একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করলাম। নৌকা আসতে যেটুকু সময় লাগবে তার মাঝে দেখে নিলাম বৌদ্ধ মন্দির। বৌদ্ধ মন্দিরে অপরুপ কারুকার্য খচিত ভবনগুলো আর তাদের শৃংখলাবোধ দেখে প্রশংসা না করে পারলাম না। বৌদ্ধ মন্দির দেখতে দেখতে চলে এল নৌকা। সবকিছু নিয়ে উঠে গেলাম নৌকায়। এবারের গন্তব্য শুভলং পাহাড়।

কাপ্তাই হ্রদ:
কাপ্তাই হ্রদের বুক চিড়ে এগিয়ে যাচ্ছি শুভলং পাহাড়ের দিকে। যতই সামনে এগুচ্ছি ততই প্রকাশিত হচ্ছে বাংলার অপরুপ সৌন্দর্যের চিত্র। সত্যিই অপরুপ যার কোন তুলনা নেই। যতই সামনে এগুচ্ছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। কিছুদুর যাওয়ার পর নদীর পাড় ঘেঁসে দাড়িয়ে থাকা আকাশ সম টিলাগুলো দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না।

প্রথম দেখলে যে কেউ বলে উঠবে এটা কি মাটি না লোহা? আসলেই অবাক হওয়ার মত দৃশ্য এখানকার মাটি অনেকটা লোহার মতই। নদীর কুলে সেই লোহাসম মাটিতে তৈরি হওয়া খাজ গুলো আসলেই দেখারমত। 

শুভলং পাহাড়:
দেখতে দেখতে আমরা পৌছে গেলাম শুভলং ঝরনায় কিন্তু পানি না থাকায় ঝরনার কোন অস্তিত্বই পেলাম না। ঝরনা নিয়ে ভাবতে ভাবতে উপর থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখি বন্ধুদের অনেকেই এখন পাহাড়ের উপর। আমারও যেতে ইচ্ছে হল কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে উপরে উঠার সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না। নিচ থেকেই দেখে নিতে হল এ অপরুপ সুন্দর্য। ঝরনায় পানি না থাকলে কি হবে এর আশে-পাশের অপরুপ বৈচিত্র ভুলিয়েই দিয়েছে ঝরনার অপূর্নতার কথা।

দেখতে দেখতে দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল ছুঁই ছুঁই করছে অথচ এখনো দুপুরের খাওয়াই হয়নি। অনেক কষ্টে সবাইকে পাহাড় থেকে নামিয়ে নৌকায় উঠলাম। নৌকায় বসে আগে থেকে নিয়ে আসা খাবার খেয়ে নিলাম। খাওয়া-দাওয়া সেরে নৌকার ছাদে বসে আড্ডা দিতে দিতে পৌঁছে গেলাম ঘাঁটে।নৌকা থেকে নেমে সবাই উঠে গেলাম গাড়িতে।

গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গামাটির ঘর, আমার মন জুড়ায় রে........সম্মিলিত স্বরে গানটির সুরে সুরে রাঙ্গামাটিকে বিদায় জানিয়ে গাড়ি ছুটে গেল বান্দরবনের পথে। বিদায় রঙ্গীন মাটির শহর রাঙ্গামাটি।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

রাঙ্গামাটি, শুভলং, কাপ্তাই-হ্রদ, ঝুলন্ত-ব্রীজ, ভ্রমন, পাহাড়, ঝরনা, প্রকৃতি, দৃশ্য, সৌন্দর্য