সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Dulahazra-safary-park.jpg

ঘুরে আসুন ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক: জ্ঞান ও প্রকৃতির মিলনমেলা

ভ্রমণ সর্বদাই আনন্দের। তাই কোথাও ভ্রমণের সুযোগ পেলে আমি কখনও হাত ছাড়া করতে চাই না। আর যদি সেটা হয় প্রকৃতির মাঝে জ্ঞান অর্জনের সহায়ক তবে তো কথাই নেই। এইতো কয়েকদিন আগে আমার সুযোগ হয়েছিল ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক বা ডুলাহাজরা শেখ মুজিব সাফারী পার্কটি ভ্রমণের। চট্টগ্রাম বেড়াতে আসলে এই পার্কটি দর্শনের সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। কারণ নগরায়নের ব্যস্তময় জীবনে সবুজ শ্যামল গাছপালা, মুক্তভাবে বিচরণশীল প্রাণী, পাখির কলকাকলী আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

সাফারী পার্ক:
অনেক সময় একে ওয়াইল্ড লাইফ পার্ক বলা হয়। এটি হচ্ছে অনেকটা চিড়িয়াখানার মত যেখানে পর্যটক আকর্ষণ করা হয়। দর্শনার্থীরা এখানে যানবাহন চালিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্তভাবে বিচরণশীল প্রাণী দেখবেন। সহজভাবে বলা যায় এখানে প্রাণীরা থাকবে মুক্ত। তাদের রাখা হবে লতাপাতা, ঝোঁপঝাড় কিংবা গাছপালা দিয়ে ঘেরা বেড়া দিয়ে। এসব বিবেচনায় এটিকে সাফারী পার্ক নাও বলতে পারেন।

সাফারী পার্কের অবস্থান ও প্রাণী বৈচিত্র:
সাফারী পার্ক কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার জেলা সদরের দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজরা ব্লকে অবস্থিত। চট্টগ্রাম জেলা থেকে মাত্র ১৭০ - ১৮০ টাকার বাস ভাড়ায় যেতে পারবেন।

মূলত এটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠলেও এতে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, গয়াল, কুমির, জলহস্তী, হরিণ, মিঠা ও নোনা পানির কুিমরসহ নানাবিধ পাখপাখালির মেলা রয়েছে। সবুজ - শ্যামল গাছপালায় বিস্তৃত ৬০০ হেক্টর এলাকা দেখলে দর্শনার্থীদের মন ভরে যায়। এটি ১৯৯৯ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল।

প্রবেশ মূল্য:
প্রধান ফটকের পাশেই ১০ টাকায় টিকেট কাটতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টাকা ও বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য ২৫০ টাকা নিবে। মাত্র ২০ টাকায় পাবেন গাড়ি পার্কিং সুবিধা। পার্কের ভিতর কর্তৃপক্ষের গাড়ি আছে। তবে সেগুলোতে উঠবেন না। কারণ এতে গাছের ডালে লাফিয়ে চলা কাঠবিড়ালী, বানর দেখার সুযোগ হারিয়ে ফেলতে পারেন। পায়ে হাটাই ভাল।

কি দেখবেন ভিতরে:
শুরুতেই হাতের ডানে ডিসপ্লে ম্যাপ ও বামে দেখবেন বিশাল আকারের ডাইনোসরের প্রতিকৃতি। আরেকটু সামনে ডানে দেখবেন বিরল প্রজাতির কচ্ছপ সংরক্ষণাগার ও বামে চোখে পড়বে বন্য প্রাণী চিকিৎসালয়। হনুমান, ময়না পাখি ও বানর দেখতে দেখতে এগিয়ে যান। পার্কের ভিতর চিৎকার করবেন না। আর কোন প্রাণীকে খাবার দিবেন না। চলার পথে সাইনবোর্ডগুলো পড়বেন। এতে অনেক তথ্য পাবেন জ্ঞান বৃদ্ধি হবেই।

আপনার ঘুরে দেখা শেষ হয়নি। রাস্তা ধরে হাটতেই থাকুন। এক সময় চোখে পড়বে ইমু, ময়ুর, বাঘের খাঁচা, কালো রংয়ের শেয়াল। একেবারে শেষপ্রান্তে দেখবেন জলহস্তী। এছাড়াও পাখিশালায় পাখি, তারপর কুমির ও সামনে দেখবেন হাতি।

যা নিবেন সাথে:
পার্কের ভিতর খাবার নেয়া নিষেধ। তবে পানির বোতল নিতে ভুলবেন না। ছবি তোলা নিষেধ নয়। তাই ক্যামেরা থাকবে সাথে। তবে ছবি তোলার সময় ফ্ল্যাশ বন্ধ করে নেয়া ভাল।

পরিশেষ:
এক সময় গগনচুম্বী গর্জন, বৈলাম, তেলসুর, সিভিট, চাপালিশ, চাপাফুল এবং বিবিধ লতা ও ঔষধিসহ কক্সবাজারের চিরসবুজ বনাঞ্চল ছিল হাতি, চিতাবাঘ, হরিণ, ভাল্লুক, বন্য শুকর, বানর, উড়ন্ত কাঠবিড়ালী এবং অজগরসহ বিভিন্ন জাতের সরীসৃপ, ধনেশ, মাছরাঙ্গা, ফিঙ্গে, কেশরাজসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখপাখালির মত বিরল বন্যপ্রাণীর সমারোহে সমৃদ্ধ।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাড়তি চাপ এবং অবৈধ শিকারের ফলে এ বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্রের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়। ফলে অনেক বন্যপ্রাণী প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে থাকে।  রয়েল বেঙ্গল টাইগার হারিয়ে গেছে সেই ষাটের দশকে। এদের সংরক্ষণ করা অনেক জরুরী ছিল। তাই প্রকৃতি প্রেমীদের নিরলস পরিশ্রম ও সরকারের সহায়তায় গড়ে ওঠে পার্কটি। 

সময় নিয়ে একবার ঘুরে আসুন। দেখুন, জ্ঞান আহরণ করুন। আপনার ভ্রমণ আনন্দময় ও সুখকর হোক।

-
লেখক: শিক্ষাথী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

nature, Bangladesh, travel, KNOWLEDGE, PARK, SAFARY, DULAHAZRA