সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

2 (1).jpg

প্রকৃতির রুপ রূপনগরী সাজেক ভ্যালী

খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরায় ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে ভুলবেন না। খাগড়াছড়ি থেকে জীপগাড়ি (লোকাল নাম চান্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে একদিনে সাজেক ভ্যালী ঘুরে আসতে পারবেন।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যতে ভরা আমাদের সবার প্রিয় মাতৃভূমি। প্রকৃতির কাছে নিজেকে মিলিয়ে দিতে কত জায়গায় তো আমরা ঘুরে বেড়াই। কিন্তু কতজনের সম্যক ধারণা আছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের সম্পর্কে। না জেনে আমরা প্রতিনিয়ত কারণে অকারণে আমাদের দেশকে ছোট করছি।

যদি আমাদের দেশটি সত্যিই এতটাই খারাপ হত তবে কোনদিন কবির ভাষায় বলতো না - এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জম্মভূমি। যাই হোক, সেদিন হঠাৎ করেই নিজের মনরে অজান্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম খাগড়াছড়ির সাজেকে বেড়াতে যাব।

আমার একক সিদ্ধান্ত তাই যা করার আমাকেই করতে হবে তাই যথারীতি সকল বন্ধুদের জানালাম যদিও সবার কাছে সমান উৎসাহ পেলাম না তবুও আমার কাছের কয়েকজন বন্ধুকে রাজি করালাম। কারণ বন্ধু ছাড়া একা একা ঘুরতে যাওয়াটা তেমন জমেনা তাই। খুব উৎসুক ছিলাম খাগড়াছড়ির সাজেক জায়গাটা নিয়ে। কারণ অনেকের মুখে সাজেকের অপার সৌন্দর্যের কথা শুনতে শুনতে নিজের প্রতি রাগ জমে গেল।

কারণ আমি চট্টগ্রামে ছেলে হয়েও এখনো খাগড়াছড়ি যেতে পারলাম না অথচ কত দূর থেকে প্রতিনিয়ত কত ভ্রমণপিপাসু লোকজন সাজেক বেড়াতে আসে কিন্তু আমি চট্টগ্রামের বাসিন্দা হয়েও সাজেক বেড়াতে যেতে পারলার না এই ভেবে খুব রাগ হত। পরিশেষে নানা কর্মব্যস্ততার মাঝে আমি আর আমার ৩ জন বন্ধু অবশেষে খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্রমনে বেরিয়ে পড়লাম আর সেখানকার অপরূপ সৌন্দর্যে আমরা সবাই মুগ্ধ। আপনাদের সেই সাজেক সম্পর্কেই লিখতে বসলাম। আশা করি আপনাদরে ভাল লাগবে। যদি আপনাদের ভাল লাগে তবে আমার লেখাটাই সার্থক হবে।

সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু ,পূর্বে ভারতের মিজোরাম,পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা।

সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক আসা যায়। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার। বাঘাইহাট থেকে ৩৪ কিলোমিটার।

খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা আর্মি ক্যাম্প হয়ে সাজেক যেতে হয়। পরে পড়বে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প। যেখান থেকে আপনাকে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে। তারপর কাসালং ব্রিজ, ২টি নদী মিলে কাসালং নদী হয়েছে। পরে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার। বাজার পার হলে পরবে সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট।

এর প্রবীণ জনগোষ্ঠী লুসাই। এছাড়া পাংকুয়া ও ত্রিপুরারাও বাস করে। ১৮৮৫ সালে এই পাড়া প্রতিষ্ঠিত হয়। এর হেড ম্যান লাল থাংগা লুসাই। রুইলুই পাড়া থেকে অল্প সময়ে পৌঁছে যাবেন সাজেক। সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিজিবি ক্যাম্প। এখানে হেলিপ্যাড আছে। সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া। এটিও লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পাড়া।

এর হেড ম্যান চৌমিংথাই লুসাই। কংলক পাড়া থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। যেখান থেকে কর্ণফুলী নদী উৎপন্ন হয়েছে। সাজেক বিজিবি ক্যাম্প এর পর আর কোন ক্যাম্প না থাকায় নিরাপত্তা জনিত কারণে কংলক পাড়ায় মাঝে মাঝে  যাওয়ার অনুমতি দেয় না। ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার দেখে আসতে পারেন। একদিনে এই সব গুলো দেখতে হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেড়িয়ে পড়বেন।  

খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরায় ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে ভুলবেন না। খাগড়াছড়ি থেকে জীপগাড়ি (লোকাল নাম চান্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে একদিনে সাজেক ভ্যালী ঘুরে আসতে পারবেন। ভাড়া নিবে ৫০০০-৬০০০ টাকা। এক গাড়িতে ১৫ জন বসতে পারবেন।

লোক কম হলে শহর থেকে সিএনজি নিয়েও যেতে পারবেন। ভাড়া ৩০০০ টাকার মতো নিবে। অথবা খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা গিয়ে সাজেক যেতে পারবেন। বাসে দীঘিনালা জন প্রতি ৪৫ টাকা এবং মোটর সাইকেলে জন প্রতি ভাড়া ১০০ টাকা। দীঘিনালা থেকে ১০০০-১২০০ টাকায় মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়েও সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন। ফেরার সময় অবশ্যই সন্ধ্যার আগে আপনাকে বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প পার হতে হবে।

তা না হলে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। ক্যাম্পের ছবি তোলা নিষেধ এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের রেস্তোরার অবস্থান। এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন। যোগাযোগ: ০৩৭১-৬২৬৩৪, ০১৫৫৬৭৭৩৪৯৩, ০১৭৩২৯০৬৩২২। খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল সহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে। দীঘিনালায় কয়েকটি হোটেল থাকলেও দীঘিনালা গেস্ট হাউজের মান কিছুটা ভালো।

কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে শ্যামলী, হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। ভাড়া নিবে ৫২০ টাকা। শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা যায়। ভাড়া ৫৮০ টাকা। এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়। চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। BRTC এসি বাস

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

খাগড়াছড়ি, সাজেক-ভ্যালি, প্রাকৃতিক-সৌন্দর্য, বাস, খরচ