সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

railway-museum.jpg

দরজা খোলার ব্যাপারে দৃষ্টি নেই কতৃপক্ষের! রেলের ইতিহাস জানতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশ রেলওয়ে জাদুঘর

মরিচা পড়া টিনের চাল, জীর্ণশীর্ণ কাঠের দেয়াল জানান দেয় কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা। তাদের অবহেলার কারনেই হয়ত দর্শনাথীদের ফিরে যেতে হয় জাদুঘরের বাইরে থেকেই।

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ভ্রমণপিপাসুদের কাছে একটি বিশেষ নাম। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সবুজ - শ্যামল নান্দনিক সৌন্দর্য যেমন আছে তেমনি ইতিহাস ঐতিহ্যের খোঁজে ঘুরে ফেরা লোকদের জন্যও রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক স্থান। এখানে মোঘল, ব্রিটিশ থেকে শুরু করে আধুনিক গণতন্ত্রের প্রতিনিধিরা শাসন করেছেন।

চট্টগ্রামে অনেক প্রতিষ্ঠানের মত বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসও অনেক পুরনো। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চলছে। ১৮৬২ সাল থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ রেলের অনেক যন্ত্রাংশ আর আগের মত নেই। থাকার কথাও না। অনেক পরিবর্তন হয়েছে যন্ত্রপাতির। তাছাড়াও অনেক যন্ত্রাংশ বিকল হয়েছে। কিন্তু বিকল হলেতো আর সে সব ফেলে দেয়া যায় না। ঠিক এই চিন্তা - ভাবনা থেকেই ২০০৩ সালে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের রেলওয়ে কেরিজ এন্ড ওয়াগন কারখানার বিপরীত পাশে নয়ন জুড়ানো মন ভুলানো সবুজ প্রকৃতির মাঝে প্রায় ১২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘর। জাদুঘরটিতে দেশের অন্যান্য স্থানের রেলের পরিত্যাক্ত যন্ত্রপাতিও এনে রাখা হয়েছে।

জাদুঘরটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে হলেও সম্পূর্ণ গ্রাম্য পরিবেশ পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম শহরে আসলে খুব সহজেই রিকশা বা সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে যেতে পারবেন। জাদুঘরটি ১৫.০০ টা থেকে ১৮.০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবারসহ প্রতিদিন খোলা থাকে এমনটি লেখা দেখবেন তার দেয়ালে। কিন্তু আমি এ সপ্তাহে দুইদিন গিয়েও ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি। আজ থেকে দুই আড়াই বছর আগে একবার প্রবেশ করতে পেরেছিলাম। তবে যদি আপনি জাদুঘরের ভিতরে ঢুকতে পারেন অনেক কিছুই দেখতে পারবেন। আর বন্ধ থাকলে আশপাশের সৌন্দর্য, রেলওয়ের ভবন, তেল ফিলিং এরিয়া ইত্যাদি দেখতে পারবেন। এই জাদুঘরে কোন প্রবেশমূল্য দিতে হয় না।

জাদুঘরটি প্রায় ৪২০০ বর্গফুট এবং কাঠের তৈরি দোতলা। এর পাশেই প্রীতিলতার স্মৃতি ধারনকারী ইউরোপিয়ান ক্লাব রয়েছে। এর ভিতরে রেলের যন্ত্রপাতি চার ভাগে রাখা আছে। বামদিকের গ্যালারিতে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে, ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন মনোগ্রাম রয়েছে। ডায়নামো, লোকোমোটিভ সেফটি ডিভাইস, ডেডম্যান, এলার্ম বেল স্পিডোমিটার, বিভিন্ন ধরনের লাইট যেমন ঝাড়বাতি, রিনিং ল্যাম্প, গেইট ল্যাম্প, টেইল ল্যাম্প ইত্যাদি রাখা আছে। এছাড়াও রয়েছে রেলওয়ের গার্ডদের ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি, ক্যাপ, ডেটিং মেশিন, পিতলের ব্যাজ, গার্ডবোট, হ্যামার ইত্যাদি।

সংকেত বিভাগে সংরক্ষিত যন্ত্রপাতির মাঝে প্রধান প্রধানগুলো হল পয়েন্ট টাইমিং মেশিন, মোর্স কি উইথ সাউন্ডার, আর্ক লিভার, কন্ট্রোল কি, সিগনাল আর্ম, টুলবক্স, বিভিন্ন ধরনের এনালগ টেলিফোন, রোডল টেলিফোন, রেডিও ট্রান্সমিটার, রিসিভার ইত্যাদি।

ভেনসোমিটার, থার্মোমিটার, মেজারিং ক্যান, স্প্যানার সিঙ্গেল, অ্যাডেড বারটমি, মনোরেল হুইল বোরো প্যাকিং লেভেল, ক্যান এ বাউল ইত্যাদি রাখা আছে প্রকৌশল ও ট্রাফিক বিভাগে।

এক কথায় রেলওয়ের অতীত ও বর্তমান ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সুন্দর ধারনা পেতে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস জানতে আপনাকে ডাকছে জাদুঘরটি। তবে অনেক দর্শনার্থীর অভিযোগ জাদুঘরটি প্রায় প্রতিদিনই বন্ধ থাকে। স্থানীয়রাও বলতে পারেন না এটি খোলার সঠিক দিন। তাই আপনাকে হতাশ হয়ে ফিরেও যাওয়া লাগতে পারে। তাছাড়া মরিচা পড়া টিনের চাল, জীর্ণশীর্ণ কাঠের দেয়াল জানান দেয় কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা। তাদের অবহেলার কারনেই হয়ত দর্শনাথীদের ফিরে যেতে হয় জাদুঘরের বাইরে থেকেই। আশা করছি কর্তৃপক্ষ জাদুঘরটির উপর বিশেষ নজর দিবেন এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে তাদের কথামত প্রতিদিন যথা সময়েই খুলে দিবেন।

-
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Bangladesh, chittagong, Museum, railway